শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক গ্রেফতার

হবিগঞ্জের লাখাইয়ে এসএসসি পরিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে এক শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। শুক্রবার (৮ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় র‌্যাবের কোম্পানী কমান্ডার লে. নাহিদ হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেফতার শিক্ষক মো. মুমিনুল হক বামৈ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক। সে কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা।

র‌্যাব জানায়, বামৈ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের এক এসএসসি পরিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে ওই শিক্ষার্থীর বাবা গত ২৩ মার্চ লাখাই থানায় মামলা করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে র‌্যাব-৯ হবিগঞ্জ ক্যাম্পের সদস্যরা শিক্ষক মুমিনুল হককে গ্রেফতার করে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত তিন বছর ধরে সহকারি শিক্ষক মুমিনুল হক ওই ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে আসছেন। প্রথমে ভয়ে ওই ছাত্রী কাউকে কিছু বলেনি। পরে করোনায় স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। স্কুল খোলার পর আবারও মুমিনুল হক ওই ছাত্রীকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করা শুরু করেন। গত ১৬ মার্চ সকালে স্কুলের প্রাত্যহিক সমাবেশ চলাকালে শারীরিক অসুস্থতা বোধ করায় ওই ছাত্রী স্কুলভবনের তৃতীয় তলার শ্রেণিকক্ষে বসেছিল। সঙ্গে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিল। এ সময় সহকারী শিক্ষক মুমিনুল হক সেই কক্ষে গিয়ে অন্য শিক্ষার্থীদের বের করে দেন। পরে তিনি ওই ছাত্রীর কাছে গিয়ে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেন। এক পর্যায়ে তার হাত ধরেন।

এ সময় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন এবং আয়া গৌড়ী সেখানে গেলে মুমিনুল হাত ছেড়ে দিয়ে নিচে চলে যান। শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন ও আয়া গৌড়ী নেমে পড়লে তিনি ফের গিয়ে ওই ছাত্রীকে জড়িয়ে ধরেন। তখন ওই ছাত্রী চিৎকার শুরু করলে মুমিনুল হক তার মুখ চেপে ধরেন। তার চিৎকার শুনে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল করিমসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে গেলে মুমিনুল ওই ছাত্রীকে ছেড়ে দিয়ে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ওই ছাত্রী আত্মহত্যারও চেষ্টা করেন।

বিষয়টি তাৎক্ষণিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদ চৌধুরীকে জানানোর পরও তিনি মুমিনুল হকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় ২৩ মার্চ দুপুরে স্কুলে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষককের শাস্তির দাবিতে হবিগঞ্জ-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক অবরোধ করে রাস্তায় আগুন নিয়ে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শরীফ উদ্দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষক মুমিনুলকে সাময়িক অব্যাহতি দেন। পরে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন।

ওইদিনই স্কুলছাত্রীর বাবা বাদি হয়ে সহকারি শিক্ষক মুমিনুলের বিরুদ্ধে লাখাই থানায় মামলা করেন। এরপর থেকেই মুমিনুল আত্মগোপনে যান।