ভোলা হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইনজেকশন দিচ্ছেন রোগীকে

ভোলা সদর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সেবা নিতে আসা এক রোগীকে ইনজেকশন পুশ করেন হাসপাতালে কর্মরত পরিচ্ছন্নতাকর্মী চন্দন। সোমবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল থেকে এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, গত বুধবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে ভোলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এক নারী রোগী সেবা নিতে আসেন। তখন তাকে ইনজেকশন পুশ করেন হাসপাতালে কর্মরত পরিচ্ছন্নতাকর্মী (সুইপার) চন্দন। বিষয়টি দেখে এক তরুণ সংগঠক ইয়ামিন হাওলাদার ছবি তুলে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পোস্ট করেন। তিনি ক্যাপশন দেন, ‘ভোলা সদর হাসপাতালে সুইপার যখন চিকিৎসক’। মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি ভাইরাল হয়। শুরু হয় সমালোচনা ঝড়। এ সময় হাসপাতালে কর্মরতদের দায়িত্বহীনতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সবাই।

বরিশাল সরকারি ল কলেজের শিক্ষার্থী ইয়ামিন বলেন, বুধবার আমার এক আত্মীয়কে দেখতে ভোলা সদর হাসপাতালে যাই। তখন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভিড় লক্ষ করে ভেতরে গিয়ে দেখি হাসপাতালের সুইপার চন্দন এক রোগীর হাতে ইনজেকশন পুশ করছেন। বিষয়টি দেখে আমি হতবাক হয়ে যাই যে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করা এক রোগীর হাতে অদক্ষ ঝাড়ুদার ইনজেকশন পুশ করছেন।

এদিকে ভোলা নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব এইচ এম বাহাউদ্দীন বলেন, দেশের একমাত্র দ্বীপজেলা ভোলার ২০ লাখ মানুষের চিকিৎসার সেবার ভরসাস্থল ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল। এই হাসপাতালে জনবল-সংকটের অজুহাতে প্রতিনিয়ত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে আশা রোগী ও তাদের স্বজনরা ভোগান্তিতে পড়ছে। আজ সুইপার ইনজেকশন পুশ করছে, কাল হয়তো অন্য কেউ অপারেশন করবে, আমরা স্বাস্থ্যসেবায় কতটা অবহেলিত, তা প্রমাণিত।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুইপার চন্দনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

ভোলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. লোকমান হোসেন তার দায় এড়িয়ে বলেন, চন্দন হাসপাতালে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। সে রোগীকে ইনজেকশন পুশ করার প্রশ্নই ওঠে না। সে এমন কাজ করবে কেন? জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ও ব্রাদার রয়েছে। তারপরও অপনাদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি দেখছি।

ভোলার সিভিল সার্জন ডা. কে এম শফিকুজ্জামান ছুটিতে আছেন। তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাই বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।