ভুট্টা চাষে তিনগুণ লাভ, জয়পুরহাটে বাড়ছে ভুট্টা চাষ

ফলন বেশি ও চাহিদা থাকায় ভুট্টা চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন জয়পুরহাটের কৃষকরা। মুরগি ও গো- খাদ্য তৈরিতে ভুট্টার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হওয়ায় সারা বছর ভুট্টার চাহিদা থাকে। ভুট্টা ফসলের মোচা বা কব সংগ্রহের পরে গাছের অবশিষ্ট অংশ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়। ভুট্টা হতে আটা, ময়দা ও তৈরি হয়। ফলে কৃষকেরাও এ ফসল চাষে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় ভুট্টার চাষে খরচ কম, তুলনা মূলক লাভ হয় বেশি। জমির মাটি উর্বর ও চাষ উপযোগী হওয়া ও পাশাপশি আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় গত মৌসুমের চেয়ে এ বছর ব্যাপকহারে ভুট্টা চাষ করেছেন জয়পুরহাটের জামালপুর,পাঁচবিবি ও আক্কেলপুর উপজেলার চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলার পাঁচ উপজেলায় চলতি ২০২১-২২ রবি মৌসুমে ৮৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে। গত মৌসুমে হয়েছিল ৭৪৫ হেক্টর জমিতে। যা গত মৌসুমের চেয়ে ১০৫ হেক্টর বেশি। এতে ফলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ভুট্টা। ভুট্টা চাষে প্রতি বিঘায় প্রায় ৯-১০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি বিঘায় ভুট্টার ফলন আসে ৩৫-৪০ মণ। বাজারে নতুন ভুট্টার মণ ৬০০-৭০০ টাকা। আবহাওয়া ভালো থাকায় এবারও বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ। জেলায় সুপারসাইন-২৭৬০ জাতের ভুট্টা বেশি চাষের পাশাপাশি এভারেস্ট জাতের ভুট্টা,প্যাসিফিক ৯৮৪, এন কে ৪০ চাষ হয়েছে।

সরেজমিনে জয়পুরহাট সদর, পাঁচবিবি ও আক্কেলপুর উপজেলায় বিভিন্ন মাঠে দেখা যায় কৃষকরা ভুট্টা চাষ করেছেন। কৃষকেরা ব্যাস্ত সময় পার করছেন ভুট্টার গাছ ও জমির পরিচর্যায়।মাঠে গেলে ভুট্টা চাষের দৃশ্য চোখে পড়ার মতো।

জয়পুরহাট সদরের গাড়িয়াকান্ত গ্রামের ভুট্টা চাষী ইউনুস আলী বলেন, জমিপ্রস্তুত, বীজ, সার,পানি, শ্রমিক মজুরি,কাটা-মাড়াইসহ প্রতি বিঘায় তাদের খরচ হয় সর্বোচ্চ ৮-১০ হাজার টাকা।ভুট্টা বিঘাতে গড়ে ৩৫-৪০মণ হয়।বাজারে এর অনেক চাহিদা আর দামও মোটামুটি ভালো।আমি গত বছর ৩ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছিলাম, এবার ৫ বিঘা জমিতে করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। আশা আছে ভালো মুনাফা পাবো।

একই গ্রামের কৃষক রব্বানী বলেন, এই বার প্রথম ১ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি,ভুট্টার মোচাও বের হয়েছে,আশা,করছি ভালো ফলন পাবো।গত বছর এই জমিতে কলা চাষ করেছিলাম।এবার লাভের আশায়, চাহিদা থাকায় ভুট্টা চাষ করেছি।

জামালপুর ইউনিয়নের কৃষক সাদেক মন্ডল বলেন,ফলন ভালো পাই। কম খরচে লাভ বেশি হয়।পাশাপাশি ভুট্টার কোন কিছুই ফেলে দেওয়া হয় না। এর পাতা গরুকে খাওয়াই, ডাটা ও মোচার অবশিষ্ট অংশ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ভুট্টা একটি লাভজনক ফসল। আমরা বরাবরই কৃষকদের ভুট্টা চাষে প্রণোদনা দিয়ে আসছি। ভুট্টা চাষে লাভ বেশি, খরচ কম। তা ছাড়া, বীজ, স্যার, নানা রকম পরামর্শ দিয়ে আমরা কৃষকদের চাষে আগ্রহী করছি।

আশা করি এবছরও অধিক ফলনের মুখ দেখবেন এখানকার ভুট্টা চাষিরা।পোলট্রি ফিড ছাড়া ভুট্টার বহুমুখী ব্যবহারে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই এই ফসলটির স্থায়িত্ব এবং চাষাবাদ অনেকাংশে বেড়ে যাবে।