বেদেপল্লিতে বিয়ে, আড়াই শতাধিক মানুষকে পিঠা খাওয়ালেনআন্তর্জাতিক নেতা

=
বেদেপল্লিতে বিয়ে, আড়াই শতাধিক মানুষকে পিঠা খাওয়ালেন আ.লীগ নেতা
বেদে সম্প্রদায়কে বলা হয় যাযাবর জাতি। তারা কখনো এক জায়গায় দীর্ঘদিন বসবাস করে না। তেমনি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বানার নদীর তীরে মাস খানেকের জন্য বসত গড়েছেন তারা। সেখানেই রোববার (০৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে বেদেপল্লির নুরুল ইসলামের ছেলে বদরুল ও খাইরুলের মেয়ে সাইদা আক্তারের বিয়ে হয়। এই বিয়েতে বাড়তি আমেজ এনে দিয়েছেন এক আওয়ামী লীগ নেতা।

নুরুল-সাইদার বিয়ে উপলক্ষে বেদেরপল্লির ঘরগুলো সাজানো হয়েছিল লাল-বেগুনি-সবুজসহ বাহারি রঙিন কাগজ আর বেলুন দিয়ে। রঙ-বেরঙের বৈদ্যুতিক বাতির আলোর ঝলকানিতে পুরো পল্লি আলোকিত হয়ে ওঠে। বসতির এক কোণে উন্মুক্ত মঞ্চে নিজস্ব সংস্কৃতি, নাচগানে মধ্যরাত পর্যন্ত উৎসবে মেতে থাকে বেদের সম্প্রদায়ের সদস্যরা।
=

বিয়ের খবর শুনে মঙ্গলবার বেদেপল্লিতে হাজির হন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আকরাম হোসেন বাদশা। এ সময় তিনি নিজ খরচে পল্লির সদস্যদের জন্য পিঠা উৎসবের আয়োজন করেন। নবদম্পত্তিকে উপহার হিসেবে দেন নতুন পোশাক, শাড়ি ও পাঞ্জাবি।

আকরাম হোসেন বাদশা একজন কৃষি উদ্যোক্তা। তার বাড়ি শ্রীপুর উপজেলার দমদমা গ্রামে। তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য। তার ভাই গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ।

আকরাম হোসেন বাদশা বলেন, বেদেরা সমাজের অবহেলিত সম্প্রদায়। আমাদের চোখের সামনে তাদের বসবাস হলেও আমরা তাদের দিকে ফিরে তাকানোর সময় পাই না। অথচ তারাও আমাদের মতো মানুষ। এখানে বসবাস করা এক যুগলের বিয়ের খবর শুনে তাদের মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি করতে উপহার নিয়ে এসেছি। পাশাপাশি আবহমান বাংলার ঐতিহ্য পিঠা উৎসবের মাধ্যমে আড়াই শতাধিক মানুষকে পিঠার স্বাদ দিতে পেরেছি। এ কাজেই জীবনের বড় তৃপ্তি।

কনের বাবা খাইরুল ইসলাম বলেন, সচরাচর বেদেদের বিয়েতে খুব জমকালো আয়োজন হয় না। চোখের সামনে শতাধিক বিয়ে দেখেছি। আমাদের সম্প্রদায়ের বাইরের কেউ তেমন খোঁজ নেয় না। তবে নিজের মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে যেভাবে আজ উৎসবের উপলক্ষ এনে দিলেন একজন, এটা সত্যিই স্মরণীয়।

বর বদরুল জানায়, দুটি পরিবারের সম্মতিতে সাইদার সঙ্গে তিন বছরের প্রেমের সমাপ্তি ঘটল। আমাদের বিয়েতে পিঠা উৎসব ভিন্নমাত্রা এনেছে। এটা শিশু থেকে বয়স্ক সবাইকে আনন্দ দিয়েছে।