বাহাদুরাবাদ ঘাট থেকে পরীক্ষামূলক লঞ্চ সার্ভিস চালু

জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট থেকে গাইবান্ধার বালাসী ঘাট পর্যন্ত পরীক্ষামূলক লঞ্চ সার্ভিস চালু হয়েছে। নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী আজ শনিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ ঘাটে পরীক্ষামূলক লঞ্চ সার্ভিস ও নৌ টার্মিনালের শুভ উদ্বোধন করেন।

এসময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঐতিহ্যবাহী নৌরুটটি ধরে রাখার চেষ্টা করছে সরকার। নাব্যতা সংকটের কারণে সার্বক্ষনিক নদী খননের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদীর প্রবাহ নিয়ে আমাদের আলোচনা চলছে, এর মধ্যে যমুনা ও তিস্তা নিয়ে কথা চলছে। আলোচনা ফলপ্রসু হলে নদীর নাব্যতা ফিরে আসবে। নাব্যতা ফিরে আসলেই নৌ চলাচলে কোনও বাধা থাকবে না।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ইতিমধ্যে সাত হাজার কিলোমিটার নৌপথ তৈরি করে ফেলেছি, আমাদের লক্ষ্য দশ হাজার কিলোমিটার নৌপথ। সরকার দেড়শ’ কোটি টাকা ব্যায়ে যে টার্মিনাল তৈরি করেছে তা ধরে রাখার জন্যই নির্মাণ করা হয়েছে।

এসময় বিআইডব্লিউটি-এর চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোলাইমান হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুন্নাহার শেফা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দেওয়ানগঞ্জ সার্কেল) রাকিবুল হাসান রাসেল, দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র নুরে আলম সিদ্দিকী জুয়েলসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার দুপুরে পরীক্ষামূলকভাবে বালাসিঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ২০০ জন যাত্রীর ধারন ক্ষমতাসম্পন্ন এম. ভি মহব্বত এক্সপ্রেস লঞ্চ।

জানা যায়, ১৯৩৮ সালে জামালপুরের বাহাদুরাবাদ থেকে গাইবান্ধার জেলার ফুলছড়ি পর্যন্ত নৌরুট চালু করে ব্রিটিশ সরকার। বিভিন্ন কারণে ১৯৯০ সালে গাইবান্ধার বালাসীতে ঘাট স্থানান্তর করা হয়। ১৯৯৬ সালে যমুনা নদীতে নব্যতা হ্রাসের কারণে বাহাদুরাবাদ-বালাসী রুটে ফেরী চলাচল প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়। ১৯৯৮ সালে যমুনা বহুমুখী সেতু চালু হয়। এরপর নাব্যতা সংকট ও নদীর গতি প্রকৃতি পরিবর্তনসহ নানা কারণে ২০০০ সালে এই রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এতে অকার্যকর হয়ে পড়ে বাহাদুরাবাদ ঘাট। তবে ঝুঁকি নিয়ে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকায় পারাপার অব্যাহত ছিল।

দীর্ঘ ২২ বছর পর এই রুটে পরীক্ষামূলকভাবে লঞ্চ সার্ভিস চালু করায় আনন্দিত স্থানীয়রা। এই রুটে লঞ্চ সার্ভিস চালু হলে উপকৃত হবেন তারা। আগের চেয়ে কম সময় ও কম খরচে পারাপার করতে পারবেন। এছাড়া মালামাল পরিবহনেও সুবিধা হবে তাদের। তবে নাব্যতা সংকটের কারণে এই নৌরুট বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে স্থানীয়দের।

বাহাদুরাবাদ ঘাট এলাকার বাসিন্দা আহসান হাবিব বলেন, এই রুটে লঞ্চ সার্ভিস চালু হলে আমাদের খরচ অনেকটা কমবে। আগে ইঞ্জিনচালিত নৌকা দিয়ে বালাসি ঘাট যেতে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা লাগতো। এখন আমরা খুবই কম খরচে যেতে পারবো। আমরা যারা নিয়মিত যায় তারা অনেক উপকৃত হলাম।

বাহাদুরাবাদ ঘাট এলাকার আরেক বাসিন্দা আজিম উদ্দিন বলেন, ‘ইঞ্জিনওয়ালা নৌকা দিয়ে বালাসি ঘাট যাইতে ৩ ঘন্টা থাইকে ৪ ঘন্টা সময় লাগে। এহন লঞ্চ দিয়ে যাইতে খুবই কম সময় লাগবো। আমরা এক দিনেই যাতায়াত করবার পামু।’

ষাটোর্ধ আক্কাস আলী বলেন, ‘নৌকা দিয়ে বালাসি ঘাট গেলে বুকটা ধরফর করে। মাঝে মধ্যেই নৌকা ডুইবে যায়। লঞ্চে ঝুঁকিটা খুবই কম। তাই অনেকে জীবন মরণের হাত থাইকে রক্ষা পাবো।’

এই লঞ্চ সার্ভিস চালু হওয়ায় ঘাট এলাকায় আর্থ সামাজিক উন্নয়ন হবে বলে আশা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের। তাই এই লঞ্চ সার্ভিস চালু রাখার দাবি তাদের। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোলাইমান হোসেন জানান, এই রুটে আবারও লঞ্চ চালু হলে ঘাট এলাকায় প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে আসবে। এখানে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার হবে। ফলে এই অঞ্চলের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন হবে। তাই এই লঞ্চ সার্ভিস চালু রাখার দাবি তার।