বান্দরবানে ‘মারমা-বাংলা প্রথম অভিধান’র মোড়ক উন্মোচন

মারমা ভাষা থেকে বাংলা ভাষার প্রথম অভিধানের বই প্রকাশিত হয়েছে। এ উপলক্ষে ৮ এপ্রিল (শুক্রবার) বান্দরবান মাস্টার গেস্ট হাউজ হল রুমে ‘মারমা-বাংলা অভিধান’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়।

মোড়ক উন্মোচন করেন শিক্ষাবিদ, লেখক ও মার্মা ভাষার গবেষক ক্য শৈ প্রু খোকা।

ক্য শৈ প্রু খোকা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ১১টি জাতিসত্তার মধ্যে ২য় সংখ্যাগরিষ্ট মারমা জনগোষ্টি, তার মধ্যে বাংলাদেশ, মায়ানমার, ভারত মিলে প্রায় তিন লক্ষ মারমা জনগোষ্ঠীর বসবাস। নিজেদের ভাষায় বর্ণমালা, সাহিত্য, রূপকথার গল্প থাকলেও এতদিন মারমা ভাষার অভিধান ছিল না। ভাষা, শব্দ, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য বেঁচে থাকলে একটি জাতির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। এতোদিন মারমা জাতিরা চেষ্টা করেও সফল হয়নি। শিক্ষক ও বইয়ের লেখক জুয়েল বড়ুয়া সফল হয়েছেন। তিনি মারমা জাতিসত্তার মানুষ না হয়েও মারমা-বাংলা অভিধান বইটি লিখে মারমা জাতির প্রতি মহা উপকার করেছেন, তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।

তিনি আরো বলেন, অভিধান বইটির কারণে মারমা ভাষা ও বাংলা ভাষার একটা সেতুবন্ধন রচিত হয়েছে।

মারমা-বাংলা অভিধান বইয়ের লেখক জুয়েল বড়ুয়া জানান, ২০১৭সালে রোয়াংছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করার পর তিনি খেয়াল করেন যে মারমা শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ডে নাম এক ধরনের, হাজিরা খাতায় একধরনের, নিজে উচ্চারণে নামটা বলে আরেক ধরনের। তারপর থেকে তিনি জানার চেষ্টা করলেন কেন এমন হয়। তারপর তিনি মায়ানমার থেকে বার্মিজ-ইংলিশ অভিধানসহ যারা মারমা ভাষার লেখক তাদের সাথে যোগাযোগ করে অবশেষে ৪ বছর নিরলস চেষ্টার ফলে মারমা-বাংলা অভিধান বইটি প্রকাশ করতে পেরেছেন।

তিনি প্রয়াত মারমা ভাষার গবেষক শৈফোচিং মারমা’র নিকট কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে বলেছেন মারমা-বাংলা অভিধান বইটি শতভাগ সঠিক হবে না, ভূল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার আবেদন জানিয়েছেন।

জুয়েল বড়ুয়া বর্তমানে পটিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে গণিত বিষয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

অন্যান্যদের মধ্যে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ক্য সা মং মারমা, চাই সুই হ্লা মারমা, লেখক-গবেষক ডাঃ মং উষাথোয়াই, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান থোয়াইং চ প্রু মারমা, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অং চ মং মারমা, সাংবাদিক বুদ্ধ জ্যোতি চাকমা, শিক্ষক শৈটিং প্রু মারমাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।