পাহাড়ে সাজ সাজ রব

দুই বছর পর আবার পার্বত্য অঞ্চল বান্দরবানে শুরু হয়েছে সাংগ্রাই, বিজু, বৈসু উৎসবের আমেজ। দেশের তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব সাংগ্রাই, বিজু, বৈসু ঘিরে উৎসবের নানান রঙে সাজতে শুরু করেছে পুরো পাহাড়ি এলাকা।

বান্দরবানের সাংগ্রাই উদযাপন কমিটি সাধারণ সম্পাদক শৈটিং মারমা জানান, সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ১৩ তারিখ সকাল ৮টায় মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে এর সূচনা করা হবে। ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছোয়াং দান, বুদ্ধ স্নান, শীলগ্রহণ ইত্যাদি আর সামাজিক অনুষ্ঠান মৈত্রী পানি বর্ষণ, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, মিনি ম্যারাথন দৌড় এবং পাহাড়ীদের ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলাসহ নানা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, প্রাণঘাতি করোনার প্রাদুর্ভাবে লকডাউনের কারণে গত দুই বছর অনুষ্ঠিত হয়নি মারমা সম্প্রাদায়ের প্রধান উৎসব সাংগ্রাই মৈত্রী পানি বর্ষণ। এ বছরের ১৫ এপ্রিল শুরুতে হতে যাচ্ছে সেই উৎসব। উৎসব ঘিরে শুরু হয়েছে বিভিন্ন গ্রামে নৌকা, পিঠা বানানোর প্রস্তুতি। প্রায় অধিকাংশ গ্রামের মধ্যে বাঁশ দিয়ে তৈরী করা হচ্ছে নৌকা। পাশাপাশি এই উৎসবকে ঘিরে তালিকাও করা হয়েছে কী কী উদযাপন করা হবে সেগুলোর।

উৎসবের প্রথম দিনে চাকমা, ত্রিপুরা ও মারমারা বন থেকে ফুল আর নিমপাতা সংগ্রহ করে সেই ফুল দিয়ে ঘর সাজায় ও নদী, খালে ফুল ভাসিয়ে সকল প্রাণীর হিতসুখ মঙ্গল কামনা করে। মূল বিজুর দিনে ঘরে ঘরে রান্না হয় ঐতিহ্যবাহী পাচন। চলে ঘরে ঘরে বিভিন্ন নাস্তার আয়োজন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বান্দরবান সদর উপজেলার অন্তর্গত সুয়ালক মাঝের পাড়া, রেইছা থলি পাড়া, জামছড়ি, বাঘমারা, বালাঘাটা, ডুলুপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকাজুড়ে চলছে নৌকা বানানোর প্রস্তুতি। আবার গ্রামের যুবকরা বাঁশ কেটে কাঁধে করে নিয়ে আসছে প্রয়োজনীয় আনুষাঙ্গিক যন্ত্রাংশগুলো তৈরী করার জন্য। আবার কিছু কিছু গ্রামে ভ্যান গাড়ির সাহায্যে নিয়ে যাচ্ছে বাঁশ। নৌকার কারিগরও মাটি খুঁড়ে বাঁশগুলো গর্তে দিচ্ছে। অনেকে আবার করাত দিয়ে মাপজোখ করে কাটছে পরিমাপ মতন। পাড়ার যুবক-যুবতিরা তিনদিনের আয়োজন আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন।

দুংখী পাড়ার এক নৌকার কারিগর বলেন, সাংগ্রাই উৎসব আসলে আমাদের চাপ পড়ে যায় নৌকা বানাতে। দু’পাশে দু’নৌকা বানাতে বাঁশ লাগে প্রায় ২০টির উপরে। সবকিছু মিলিয়ে নৌকা বানাতে খরচ হয় প্রায় ১৫ হাজার টাকার মতন। সময় লাগে প্রায় ৬-৭ দিন।

বান্দরবানের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি সাংস্কৃতিক ইনষ্ঠিটিউটের পরিচালক মংনুচিং বলেন, পার্বত্য জেলায় সবচেয়ে বড় উৎসব হল সাংগ্রাই, বিজু, বৈসু (নববর্ষ)। নিজেদের ঐতিহ্যবা ধরে রাখতে মারমাদের প্রধান আকর্ষণ মৈত্রী পানি খেলা ও পিঠা বানানো। কয়েকদিন পর সেটি শুরু হতে যাচ্ছে। আমরাও প্রস্তুতি নিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, ১১ এপ্রিল ম্রোদের চাংক্রান উৎসব উদযাপনের মধ্য দিয়ে বান্দরবানে শুরু হবে পাহাড়ীদের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব।

বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার জেরিন আখতার বলেন, সাংগ্রাইং, বিজু, বৈসু বাংলা নববর্ষ যেহেতু একটার পর আরেকটা অনুষ্ঠান তাই সেভাবেই আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। যাতে সবাই নির্বিঘ্নে উৎসব অনুষ্ঠান উপভোগ করতে সে ব্যবস্থাই করা হয়েছে।