পাগলা মসজিদের সিন্দুকে মিলেছে ১৫ বস্তা টাকা

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে এবার মিললো রেকর্ড ১৫ বস্তা টাকা। মিলেছে স্বর্ণালংকার ও বিদেশি মুদ্রাও। আজ শনিবার (১২ মার্চ) সকালে মসজিদের আটটি লোহার দানসিন্দুক খোলা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. নাজমুল ইসলাম সরকার।

জানা গেছে, খোলার পরপরই টাকা গণনার কাজ শুরু হয়। গণনার কাজে অংশ নেন রুপালি ব্যাংকের এজিএম, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এর আগে সর্বশেষ ৬ নভেম্বর এসব দানসিন্দুক খোলা হয়েছিল বলে জানা যায়। ঐ সময় তিন কোটি ৭ লাখ ১৭ হাজার ৫৮৫ টাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার পাওয়া গিয়েছিল।

মসজিদ পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার সকাল ৮টায় জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মসজিদের আটটি দানসিন্দুক খোলা হলে ১৫টি বস্তা ভরে যায়। পরে টাকাগুলো গণনার জন্যে মসজিদ কমপ্লেক্সে আনা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টাকা গণনার কাজ চলছে। টাকা ছাড়াও মসজিদে দান হিসেবে পাওয়া গেছে চাল-ডাল, গবাদিপশু আর হাঁস-মুরগি। এসব পণ্য নিলামে বিক্রি করে জমা করা হয় মসজিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে।

কথিত আছে, প্রায় ৫০ বছর আগে পাগলবেশী এক সাধু পুরুষ নরসুন্দা নদীর মাঝখানে পানিতে মাদুর পেতে আশ্রয় নেন। তার মৃত্যুর পর সমাধির পাশে এ মসজিদটি গড়ে ওঠে। সেই থেকে পাগলা মসজিদ নামে পরিচিতি মসজিদটি।

মসজিদের একজন খাদেমের কাছে টাকা দানের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘পাগলা মসজিদে দান করলে মনের ইচ্ছাপূরণ হয়— এমন বিশ্বাসে মুসলমানরাসহ অন্যান্য ধর্মের লোকজনও এখানে দান করেন।

কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে পাগলা মসজিদ অন্যতম। শহরের পশ্চিমে হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে মাত্র ১০ শতাংশ ভূমির ওপর এ মসজিদটি গড়ে উঠেছিল। সময়ের বিবর্তনে আজ এ মসজিদের পরিধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে এর খ্যাতি ও ঐতিহাসিক মূল্যও। মসজিদকে কেন্দ্র করে একটি অত্যাধুনিক ধর্মীয় কমপ্লেক্স এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রসারিত হয়েছে মূল মসজিদ ভবন।