দোকানে ফুলের পসরা, মুখে হাসি নেই ব্যবসায়ীদের

রাত পোহালেই ১৪ ফেব্রুয়ারি। দিনটি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস হিসেবে পরিচিত। একই দিনেই আবার বাংলা ১৪২৮ সনের পয়লা ফাল্গুন। এই দিনটির অপেক্ষায় থাকেন ফুল বিক্রেতারা। কিন্তু এবার মুখে হাসি নেই বরগুনার ফুল ব্যবসায়ীদের।

বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে এবার বরগুনার ফুলের দোকানগুলো ক্রেতাশূন্য। ফলে চরম লোকসানের আশঙ্কায় জেলার ফুল ব্যবসায়ীরা।

বরগুনার পৌর শহরের নাথপট্টীর রাসেল স্কয়ারে হাতে গোনা কয়েকটি স্থায়ী ফুলের দোকান রয়েছে। বিশেষ করে বরগুনার ঐতিহ্যবাহী বসন্ত উৎসবকে ঘিরে ফুল কেনার হিড়িক পড়ত দোকানগুলোয়। কিন্তু করোনার বিধিনিষেধের কারণে এবারও হচ্ছে না বসন্ত উৎসব। তা ছাড়া স্কুল-কলেজও রয়েছে বন্ধ। তাই ক্রেতা তুলনামূলক কম।

সরেজমিন রোববার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বরগুনার রাসেল স্কয়ারে দেখা যায়, ভালোবাসা দিবস ও পয়লা ফাল্গুন উপলক্ষে স্থায়ী দোকানগুলোর পাশাপাশি আরও ৩ থেকে ৪টি অস্থায়ী ফুলের দোকান বসিয়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এসব দোকানে রয়েছে গোলাপ, রজনীগন্ধা, জারবেরা, গ্লাডিওলাস, ডালিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুল।

তবে দোকানে দোকানে ফুলের পসরা থাকলেও আশানুরূপ ক্রেতা নেই এসব দোকানে। ফলে লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন বিক্রেতারা। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে পুনরায় বিধিনিষেধ জারি করায় ক্রেতাসমাগম কম বলে দাবি বিক্রেতাদের।

ফুল ব্যবসায়ী অজয় কুন্ডু বলেন, ভ্যালেন্টাইন উপলক্ষে যশোর থেকে লাখ টাকার ফুল এনেছিলাম। কিন্তু করোনার কারণে স্কুল-কলেজ বন্ধ, তাই ক্রেতা অনেক কম। আগামীকাল (১৪ ফেব্রুয়ারি) কিছু ফুল বিক্রি হতে পারে বলে আশা করছি।

অস্থায়ী ফুল বিক্রেতা সুজন হাওলাদার বলেন, আগে ভালোবাসা দিবস ও বসন্ত উৎসব উপলক্ষে ফুল বিক্রি করতাম। তখন ভালোই লাভ হতো। তবে গত দুই বছর ধরে ব্যবসায় মন্দা। ভাবছিলাম এবার হয়তো ভালো কিছু হবে। কিন্তু বসন্ত উৎসব না হওয়ায় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ক্রেতা আসছে না। কীভাবে জীবিকা অর্জন করব, ভেবে পাই না।

বরগুনা জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুনির জানান, করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের সংক্রমণ রুখতে সব ধরনের গণজমায়েত নিষিদ্ধ করেছে সরকার। তাই এবারের বসন্ত উৎসব আয়োজিত হচ্ছে না।