দুদকের মামলায় সোনালী ব্যাংকের সাবেক ৩ কর্মকর্তা কারাগারে

ফরিদপুরে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের দায়ের করা মামলায় সোনালী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত তিন কর্মকর্তাকে আট বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া কোটি টাকার অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মতিয়ার রহমান এ আদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সোনালী ব্যাংক গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার কাশিয়ানী উপজেলার হিরন্যকান্দি গ্রামের মো. ফেরদৌস আলম, একই শাখার কর্মকর্তা কাশিয়ানী উপজেলার শংকরপাশা গ্রামের মো. আক্তার হোসেন এবং সাবেক ব্যবস্থাপক ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার নড়াইলের লোহাগাড়া উপজেলার লোহাগাড়া কলেজপাড়া গ্রামের এস এম মোশাররফ হোসেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, রায় প্রদানের সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাদের ফরিদপুর জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে ১৮৬০ সালের ৪০৯, ১০৯, ৪৭১ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ অধ্যাদেশের ৫ (২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

দুদকের পিপি নারায়ন চন্দ্র দাস জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে ১৮৬০ সালের দণ্ড বিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের প্রত্যেককে আট বছরের স্বশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই কোট ৯৮ লাখ ৯৬ হাজার ১০৬ টাকা জরিমানা, অনাদায়ের আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

একই আইনে ৪৭১ ধারায় আনিত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় প্রত্যেককে সাত বছর করে স্বশ্রম কারাদণ্ড এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ অধ্যাদেশের ৫ (২) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের আট বছর করে স্বশ্রম কারাদণ্ড ও নগদ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আদালতের ওই আদেশে আরও বলা হয়, সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা উপরোক্ত সব ধারার অপরাধের সাজা একত্রে গণনা করা হবে। আসামিদের হাজতবাসের সময়কাল সাজার মেয়াদ থেকে বাদ যাবে। দুই আইনের চারটির ধারার সাজা একত্রে গণনা হবে। অর্থাৎ, তাদের প্রত্যেককে মোট আট বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২০১৭ সালের ২৯ নভেম্বর গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানায় দুদকের সহকারী পরিচালক কমলেশ মণ্ডল বাদী হয়ে এ মামলাটি করেন। দুদকের উপ সহকারী পরিচালক রাজ কুমার সাহা এ মামলাটি তদন্ত করে অভিযোগ পত্র দেন।