দিনাজপুরে সড়ক সংস্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে এলাকাবাসীর অবরোধ

চৌরঙ্গী মোড় থেকে টার্মিনাল-কালুর মোড় থেকে রেল বাজার ও রেল বাজার থেকে বিআরটিসি ডিপো সড়ক দিনাজপুর শহরের ব্যস্ততম সড়ক। সড়ক চারটি অপেক্ষাকৃত নিচু ও খানাখন্দে ভরা। পাশেই বহু বছরের পুরোনো সংস্কারহীন ড্রেন। ড্রেনের আটকে থাকা ময়লা পানি উপচে পড়ে প্রায় সব ঋতুতেই কালুর মোড়ে জমে থাকে পানি। এ কারণে ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয় লোকজন। দীর্ঘদিন ধরে এর কোনো প্রতিকার না পেয়ে ওই চৌরাস্তায় ব্যারিকেড দেওয়া হয়। এতে ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারী বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রীরা পড়ছেন ভোগান্তিতে।

রাস্তার চারপাশে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া। চৌরাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন হাফিজা আক্তার (৩২)। চারপাশ থেকে আসা যানবাহন থামিয়ে বলছেন, ‘এই দিকে রাস্তা বন্ধ, যেদিক দিয়ে আসছেন সেদিকে ফিরে যান।’

এর কারণ জানতে চাইলে হাফিজা আক্তার বলছেন, বৃষ্টি-বাদল নেই। এরপরও এই মোড়ে সারা বছর জলাবদ্ধতা লেগে থাকে। আশপাশের সব ড্রেন ভাঙাচোরা। ড্রেন উপচে পানি পড়ে মোড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কাউন্সিলর ও মেয়রকে বারবার অবহিত করেও প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এভাবে রাস্তা বন্ধ করে রেখেছেন।

ঘটনাস্থলে মেয়র না আসা পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ রাখবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরজমিনে দেখা গেছে মির্জাপুর কালুর মোড়ে হোটেল,সেলুন, মুদিখানাসহ প্রায় ৩০ টি ব্যবসা প্রথিষ্ঠান রয়েছে। যা জলাবদ্ধতার কারনে ব্যবসা করতে পারছেনা। জলাবদ্ধ পানির দুর্গন্ধে দোকানে কিংবা হোটেলে কোন কাষ্টমার নেই। অথচ তা দিয়েই চলে অনেকের পরিবার।

স্থানীয় বাসিন্দা মোজাহার হোসেন বলেন, ময়লা পানির কারণে পায়ে হেঁটে রাস্তায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্কুল-কলেজ, পাবলিক লাইব্রেরি, মসজিদে প্রবেশের সময় ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শহর যেমন অপরিচ্ছন্ন হচ্ছে, তেমনি মানুষের শরীরেও বাসা বাধছে নানা রোগ।

এলাকার বায়তুল আমান জামে মসজিদের ইমাম মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ড্রেন আছে পানি পয়ঃনিস্কাশনের ব্যবস্থা নেই। তাই আশপাশের বাড়ীর পানি,বৃষ্টির পানিতে এই মোড়টা সারা বছর জলাবদ্ধতা থাকে।

দোকানদার পারভেজ বলেন, রাস্তা বন্ধ থাকলে আমার ব্যবসার ক্ষতি জেনেও আমি সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ করছি। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না করা পর্যন্ত এলাকাবাসী সবাই অবরোধ করে যাব। তারা এলাকাবাসীর দাবি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে উচ্চ কতৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ড্রেনটির ব্যাপারে মেয়র সাহেব অনেক আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি ড্রেনটি সংস্কার বা নির্মাণের কথা বলেছেন,কিন্তু এখনো তা হয়নি। আমি ড্রেনটি নির্মাণের জন্য প্রকল্প দাখিল করেছি।