দিনাজপুরে বট-পাকুড় গাছের বিয়ে

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার গড়নুরপুর গ্রামে ঢেপা নদী সংলগ্ন শ্রীশ্রী ভদ্রকালী মন্দিরে ধুমধাম করে বট-পাকুড়ের (দুই গাছের) বিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিয়েতে স্থানীয় সংসদ সদস্য (দিনাজপুর-১ আসন) মনোরঞ্জন শীল গোপালসহ ওই গ্রামের প্রায় হাজার খানেক মানুষ অংশ নেন। তবে জনশ্রুতি অনুযায়ী বট-পাকুড়ের বিয়ে কথাটি প্রচলিত থাকলেও হিন্দু শাস্ত্র মতে সঠিক কথাটি হলো অশ্বর্থ-বট বৃক্ষ প্রতিষ্ঠা।

বুধবার (৯ মার্চ ) সকাল ৯টায় সেখানে নারায়ণ পূজার মধ্য দিয়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পাকুড় গাছকে ‘বর’ ও বট গাছকে ‘কনে’ ধরে বিয়ে সম্পন্ন হয়। এই বিয়েতে পাকড়ের বাবা-মা হয়েছিলেন কমলা কান্ত রায় ও মেনকা রানী রায় দম্পতি। বটের বাবা হয়েছিলেন রমেশ চন্দ্র রায় ও মা হয়েছিলেন আরতি রানী রায়।

স্থানীয়রা জানান, একশ বছরেরও বেশি পুরনো এ মন্দির প্রাঙ্গণে বছর খানেক আগে পাশাপাশি গাছ দুটি লাগানো হয়েছিল। জনশ্রুতি আছে, পাশাপাশি বট-পাকুড় গাছ থাকলে তাদের বিয়ে দিতে হয়। এই রীতি মেনেই বুধবার ধুমধাম করে তাদের বিয়ে দেয়া হয়েছে। আর তাই মানুষের মতোই ঘটা করে ধামুধামে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।

বিয়ে ঘিরে বর-কনের পাশে ছাদনাতলা সাজানো হয়। টাঙানো হয়েছিল সামিয়ানা। লাগনো হয় দৃষ্টিনন্দন লাইট। বিয়ের জন্য প্রস্তুত করা হয় চারপাশ। হিন্দু রীতি অনুসারে কলাগাছ দিয়ে সাজানো ছিল বিয়ের আসর। দিনভর গান বাজনা চলে। গানের তালে তালে চলে বর ও কনে পক্ষের নাচানাচি। পাশেই ব্যস্ত রাঁধুনিরা। মোটকথা সত্যিকারের বিয়ের উৎসবে যা যা হয়ে থাকে তাই হয়েছে। শুধু বর-কনে দাঁড়িয়ে আছে একই জায়গাতে।

পাকুড় গাছের মা মেনকা রানী রায় বলেন, মন্দির কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি পাকুড়ের মা হওয়ার সিদ্ধান্ত পান। মূলত ছেলের (পাকুড়) বিয়ে দেওয়া উপলক্ষেই তিনি মা হয়েছেন। গাছের মা হওয়া এবং ধুমধাম আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে বিয়ে দেওয়ায় তিনি বেশ আনন্দিত।

পুরোহিত গনেশ চন্দ্র চক্রবর্তী মূল আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্বে ছিলেন। জনশ্রুতি অনুযায়ী বট পাকুড়ের বিয়ে কথাটি প্রচলিত থাকলেও হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী সঠিকটি হলো অশ্বর্থ-বট বৃক্ষ প্রতিষ্ঠা। দুপুরে মন্ত্র পড়ে অশ্বর্থ-বটের প্রতিষ্ঠার কাজটি সম্পন্ন করেছেন তিনি। বিয়ের এই অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ খেতে এসেছিলেন প্রায় হাজার খানেক অতিথি। আমন্ত্রিতদের খাওয়ানো হয় সাদা ভাত, সবজি, ডাল, আলু ভাজি।

বিয়ের এই আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের বিষয়ে মন্দির কমিটির সভাপতি বিশাল চন্দ্র রায় ও সাধারণ সম্পাদক মিনাল কান্তি রায় বলেন, হিন্দু শাস্ত্রে আছে বট-পাকুড় পাশাপাশি থাকলে তাদের বিয়ে দিতে হয়। রীতি চরিতার্থ করার স্বার্থেই এ আয়োজন। বট-পাকুড় এখন আজীবন এভাবে পাশাপাশি থাকবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

পরে বিকেল সাড়ে ৪ টায় শ্রীশ্রী ভদ্রকালী মন্দির কমিটির আয়োজনে মন্দিরের উন্নয়ন ও বট-পাকুড় বৃক্ষের বিবাহ উদযাপন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি। এসময় তিনি বলেন, জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ইশ্বর। বৃক্ষের জীবন আছে। তাই আমাদের সকলকে বৃক্ষ প্রেমিক হতে হবে। এসময় স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ ও মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।