জামালপুরে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা, সেই স্বপন গ্রেফতার

জামালপুরের মেলান্দহে স্কুলছাত্রী আত্মহত্যার ঘটনায় সেই তামিম আহম্মেদ স্বপনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার অষ্টধর ইউনিয়নের চরশশা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

আজ শনিবার (১২ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১৪ এর স্কোয়াড্রন লিডার আশিক উজ্জামান এ নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তিনি জানান, স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার খবর গণমাধ্যমে আসার পর তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আসামীর অবস্থান নিশ্চিত করে র‌্যাব। এরপর অভিযান পরিচালনা করে নিকট আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন স্বপন। মামলায় স্কুলছাত্রীর বাবার সকল অভিযোগও স্বীকার করেছেন স্বপন।

আসামী তামিম আহম্মেদ স্বপনকে আজ দিনের ভেতর মেলান্দহ থানায় হস্তান্তরের কথা জানিয়েছে র‌্যাব।

নিহত স্কুলছাত্রী আশামনি মালঞ্চ এম এ গফুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল।

এর আগে নিহত স্কুল ছাত্রীর পিতা আবু সাঈদ জানিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার সকালে খাওয়া শেষে স্কুলে চলে যায় তার মেয়ে। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে স্কুল থেকে বাড়িতে এসে দুপুরে খাবার খেয়ে তার কক্ষে শুয়ে পড়ে। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ঘুম থেকে না উঠলে নিহতের মা ডাকতে গেলে তার কক্ষে গিয়ে দেখেন ঘরের বাঁশের ধর্নার সাথে গলায় ওড়না লাগিয়ে ফাঁসিতে ঝুলে আছে। পরে স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করে মেলান্দহ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত স্কুল ছাত্রীর বাবা আবু সাঈদ জানান, আত্মহত্যার আগে দুটি চিরকুট লেখে যায় আশামনি। চিরকুটে স্বপনের নাম উল্লেখ করে মেয়ে লিখেছে, ‘ও আমাকে খুব ডিস্টার্ব করতো।… ও আমার সাথে খুব খারাপ কিছু করছে বলার মতো না।’ সে আরও লিখেছে, ‘আমারে ভুলে যেও আমি বেঁচে থাকলে তোমাদের সম্মান শেষ হয়ে যেতো। বাবা-মা ভালো থেকো।’

এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে নিহত আশামনির পিতা আবু সাঈদ বাদী হয়ে মেলান্দহ থানায় আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।