চাকরি ছেড়ে চুই-ছোলায় বাজিমাত আশরাফের

করতেন গার্মেন্টসে চাকরি। সেটা ছেড়ে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি চলে আসেন বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার রাজপাট গ্রামের মো. আশরাফুল। সবাই ডাকেন আশরাফ নামে। এখন তিনি গ্রামের বাজারে চুই-ছোলা বিক্রি করেন। পাশাপাশি ঘেরে চিংড়ি চাষ করে চলে তার সংসার।

বয়স আনুমানিক ত্রিশ বছর বা তার আশেপাশে। এখনও বিয়ে করেননি আশরাফ। বাবা-মা নিয়ে ৩ জনের সংসার; দিনে চিংড়ি চাষের ঘেরে বা অন্যান্য কাজ করেন, সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাজার বারুইপাড়ায় যান চুই দিয়ে বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত ছোলা-বুট ভুনা নিয়ে। রাত ১০টা-১১টা অবধি চলে তার বেচাবিক্রি। মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য তার এই দোকানদারী হলেও এই বাজারে তার ছোলার আলাদা কদর আছে। বাজারে এলেই তার গাড়ির পাশে শুরু হতে থাকে ভিড়।

ছোটখাট জটলার মধ্যে কেউ বলছেন— ‘ভাই, আমারে চুই বেশি দিয়েন।’ কেউ আবার— ‘ভাই, আমারে মুড়ি দিবেন না; শুধু ছোলা।’ ‘ভাই, আমারে একশ গ্রাম দিবেন৷ বাড়ি নিয়ে যাবো।’ ‘ভাই, আমারে একটু মুড়ি মিক্স করে দিয়েন।’ —এভাবেই একেক ক্রেতা একেকরকম আবদার করতে থাকেন। আর আশরাফ সবাইকে যার যার চাহিদামতো সরবরাহ করতে থাকেন চুই ছোলা। দেখতে দেখতে তার ছোলার পাতিল খালি হয়ে যায়।

অনেক সময় দেখা যায়, তার ছোলার স্টক শেষ। কিন্তু ক্রেতা এখনও কয়েকজন দাঁড়িয়ে আছেন।

ক্রেতাদের কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাজারে অন্যান্য ছোলা-মুড়ি বা ঝালমুড়ি বিক্রেতা থাকলেও আশরাফের ছোলাভুনার আলাদা নামডাক। চুই দিয়ে ছোলা ভুনা সাধারণত সবসময় পাওয়া যায় না। তাই অনেকেই আশরাফের চুই-ছোলার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। আশরাফ বাজারে ঢুকলেই একে একে ভিড় জমাতে থাকেন সবাই। তাকে সাধারণত সন্ধ্যার পরই পাওয়া যায়।

গরম গরম ছোলা ভুনা বিক্রির জন্য আশরাফ ব্যবহার করেন ভ্যান সদৃশ একটি গাড়ি। যাতে তার দোকানটি মূলত ভ্রাম্যমাণ দোকানে রূপ নিয়েছে। আশরাফও একেক সময় বাজারের একেক স্পটে গিয়ে দাঁড়ান।

আশরাফ বলেন, ঢাকায় চাকরি করতাম গার্মেন্টসে। যে টাকা আয় করতাম তা দিয়ে ঠিকমতো পোষাতো না৷ প্রায় পাঁচ বছর হলো এই ব্যবসা করছি।

তিনি জানান, দিনে চার-পাঁচ কেজি ছোলা বিক্রি হয়। সব মিলিয়ে বিক্রি হয় প্রায় ২ হাজার টাকা। সপ্তাহে দুইদিন এখানে হাট বার— এই দুইদিন বিক্রি আরও বেশি হয়।
আশরাফের হিসেব মতে, গড়ে দুই হাজার টাকার মতো তার বিক্রি হয় দৈনিক। লাভ থাকে পাঁচশ বা ছয়শ টাকা। সেই হিসেবে মাসে বিক্রি হয় ৬০ হাজার টাকা।