খুনের পর আত্মগোপন, কয়েক দফায় চাকরি বদল, হলো না শেষ রক্ষা

খুন করার পর আত্মগোপনে চলে যান ঢাকায়। ঢাকায় এসে অবস্থান নেন আত্মীয়ের বাসায়। এরপর প্রথমে পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। সেখানে নিরাপদ না ভেবে সর্বশেষ ঢাকার ডেমরায় একটি বেকারিতে কাজ শুরু করেন। তবে ভোল পাল্টেও শেষ রক্ষা হয়নি মো. শাহাদাৎ হোসেন রোকনের।

হত্যাকাণ্ডের ২২ দিন পর শনিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকার ডেমরা থানার ডগাইর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

রোববার (২০ মার্চ) সকালে র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

গ্রেফতার মো. শাহাদাৎ হোসেনের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার চিকনদণ্ডী এলাকায়। তিনি মৃত মো. সফির ছেলে।

র‌্যাব জানায়, গেল ২৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার নতুন পাড়া মোবারক রোডের সামনে ভুক্তভোগী মো. আব্দুল হালিমের ওপর হামলা চালানো হয়। মো. দিদার নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন হালিমের মাথা, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরের দিন চট্টগ্রাম মেডিকেলে কলেজ (চমেক) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

র‌্যাব আরও জানায়, এ ঘটনায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগীর মা আট জনকে আসামি করে থানায় মামলা করে। এরপর আসামিদের গ্রেফতারের গোয়েন্দা নজরদারির বাড়ায় র‌্যাব। তদন্তের এক পর্যায়ে মামলার অন্যতম প্রধান আসামি শাহাদাতকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে।

র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) মো. নূরুল আবছার জানান, ভুক্তভোগী আব্দুল হালিম ও আসামিরা বিআরটিসি বাস ডিপো থেকে গাড়ি লিজ নিয়ে ব্যবসা করতেন। ঘটনার দিন রুবেলের সঙ্গে মো. দিদারের কথা কাটাকাটি হয়। ওই দিন রাত ১১টায় মোবাইলে রুবেলকে নতুন পাড়া মোবারক সড়কে আসতে বলে দিদার। নতুন পাড়া পৌঁছানোর পর দিদার, রোকনসহ বেশ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে হামলা করে। টেন্ডারের বিরোধের জেরে পরিকল্পনা করে তাকে হত্যা করা হয়।