কুষ্টিয়ায় আলোচিত মুকুল হত্যা: ৩ আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের আলোচিত মুকুল হত্যা মামলায় ৩ আসামির আমৃত্যু এবং ৭ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। সোমবার (২১ মার্চ) দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-০১ এর বিচারক তাজুল ইসলাম এই রায় প্রদান করেন।

এসময় আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত ৭ আসামির উপস্থিতীতে এই রায় প্রদান করা হয়। বাকি ৩ আসামি পলাতক আছে।

এই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আমৃত্যু সাজা প্রাপ্ত আসামিরা হলেন-দৌলতপুর উপজেলার শালিমপুর এলাকার কামাল হোসেন এর ছেলে ওয়াসিম রেজা (পলাতক), ঝিনাইদহ জেলার হরিনাকুণ্ডু উপজেলার কাটদাহ গ্রামের আলী জোয়ার্দ্দারে মানিক জোয়ার্দ্দার (পলাতক), দৌলতপুর উপজেলার শালিমপুর গ্রামের মৃত নুরু বিশ্বাসের ছেলে হোসেল রানা।

সাবজ্জীবন সাজা প্রাপ্ত আসামিরা হলেন-মিরপুর উপজেলার বালিদাপাড়া মশান গ্রামের খোরশেদ আলীর ছেলে ইদ্রিস ওরফে মোটা জসিম (পলাতক), খন্দকার রবিউল ইসলামের ছেলে খন্দকার তৈমুল ইসলাম বিপুল (পলাতক), নুর বিশ্বাসের ছেলে ফারুক চেয়ারম্যান, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মতিমিয়া রেলগেট চৌড়হাস এলাকার খন্দকার মোছাদ্দেক হোসেন মন্টু এর ছেলে উল্লাস খন্দকার, উদিবাড়ী আমিরুল ইসলামের ছেলে মনির (পলাতক), পূর্ব মজমপুর মৃত আব্দুল খালেক চৌধুরীর ছেলে বিপুল চৌধুরী, দৌলতপুর উপজেলার পচা ভিটা গ্রামের মৃত মোজাহার মোল্লার ছেলে আ. মান্নান মোল্লা। রায়ের পরে আসামিদের কড়া পুলিশি পাহারায় কারাগারে নেওয়া হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর হোসেন মুকুল ঢাকা মহানগরীর মিরপুর এগ্রিকালচারাল ওয়ার্কশপ এন্ড ট্রেনিং স্কুল এর মাকেটিং ম্যানেজার হিসাবে কর্মরত ছিল। বিগত কয়েকমাস যাবত সুমী নামে এক মেয়ের সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং সেই সুযোগকে কাজে লাগান সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা। ২০০৯ সালে অক্টোবর মাসের ২৩ তারিখে বিকেল ৫টার সময় জাহাঙ্গীরকে বিভিন্নভাবে প্রলোভিত করে অপহরণ করে দৌলতপুর উপজেলার শালিমপুর গ্রামে ডেকে আসেন তারা এবং জাহাঙ্গীরের পরিবারের সদস্যদেরকে অপরিচিত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাকে ছাড়াতে হলে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপর্ণ দাবি করে। পরে মুক্তিপণের দাবিকৃত টাকা পেলে ২০০৯ সালের নভেম্বর মাসের ২৫ তারিখে রাতের বেলায় আসামিরা জাহাঙ্গীর হোসন মুকুলকে চর শালিমপুর হিসনানদীর পাড়ে ফারুক চেয়ারম্যানের জমিতে হত্যা করে পুতে রাখে।

এ বিষয়ে ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসের ২ তারিখে দৌলতপুর থানায় তার বড় ভাই ইলয়াচ কবির বকুল বাদী হয়ে ১৬ জন আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩১ মার্চে তদন্তকারী কর্মকর্তা দণ্ডবিধির ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। এ মামলায় সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন। প্রকাশ থাকে যে, উপরোক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে আরও তিনটি হত্যা মামলা আছে বলে আদালত জানায়।