কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে গণহত্যা নিয়ে মঞ্চনাটক

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে দেশের ৬৪ জেলায় গণহত্যা নাটক মঞ্চায়নের অংশ হিসেবে রাঙামাটিতেও ‘৭১-এর রক্তাঞ্জলি নাটক মঞ্চায়ন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যায় শহীদ আবদুস শুক্কুর স্টেডিয়ামে নাটকটি মঞ্চায়ন করা হয়।

ইয়াছিন রানা সোহেলের তথ্য ও গবেষণায় নাটক রচনা ও নির্দেশনায় ছিলেন মো. সোহেল রানা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা। ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন শিল্পকলার মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক মোঃ মামুন, পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদা আকতার, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী কামাল ও শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা শিল্পকলার সাধারন সম্পাদক মুজিবুল হক বুলবুল।

এদিন শুরুতেই প্রদীপ প্রজ্জলন করা হয়। এরপর নাটক মঞ্চায়ন। পরে আলোচনা সভা শেষে অতিথিবৃন্দ, তথ্য সরবরাহ ও গবেষণায় ইয়াছিন রানা সোহেল, নাটক রচনায় মোঃ সোহেল রানা ও মঞ্চ পরিকল্পনায় সৈয়দ আশিক সুমনকে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।

উল্লেখ্য, ‘৭০-এর নির্বাচনের পর সারাদেশের মত আন্দোলনে উত্থাল হয়ে ওঠে কাপ্তাই। শত শত আন্দোলনকারীর সাথে যোগ দেন কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম শামসুদ্দিনসহ তৎকালীন প্রজেক্টের সিনিয়র বাঙালী কর্মকর্তাগণ। গঠন করা হয় সংগ্রাম কমিটি। বাঙালী ইপিআরদের নেতৃত্বে গড়ে তোলা হয় শক্ত প্রতিরোধ। ১৯৭১-সালের ১৪ এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনী মর্টার শেলিং করতে করতে কাপ্তাই দখলে নেয়। এরপরই তারা শুরু করে নির্যাতন ও নারকীয় হত্যাকাণ্ড। ১৫ এপ্রিল বাসা থেকে ডেকে নিয়ে বাঁধের উপরে গুলি করে শহিদ করে প্রকৌশলী এ কে এম শামসুদ্দিনকে।

স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় প্রজেক্টের অনেক কর্মকর্তাসহ আন্দোলনকারীদের ধরে নিয়ে হত্যা করে লাশ কর্ণফুলী নদীতে ভাসিয়ে দেয়। অনেক নারীকে ক্যাম্পে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায় হানাদার বাহিনী। আগুনে জ্বালিয়ে দেয় ঘরবাড়ি। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগ পর্যন্ত অনেক নারী পুরুষকে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী। ৩২ জন শহীদের নাম পাওয়া গেলেও হত্যা করা হয় অনেককে। কিন্তু বাকিদের নাম পরিচয় এমনকি তাদের লাশও পাওয়া যায়নি।