ওরাও স্বপ্ন দেখছে

সুজন চন্দ্র মনিদাস (৪২)। থাকতেন উপজেলা শহরের বাড়ই খাল ব্রিজের নিচে খুপড়ি ঘর বানিয়ে। ৩ সন্তানসহ ৫ সদস্যের পরিবার তার। পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের ঘর। দেওহাটা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫নং ঘরে বসবাস করছেন তিনি। বড় ছেলে সঞ্জয় মনিদাস মির্জাপুর সরকারি সদয় কৃষ্ণ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণিতে, মেজো মেয়ে পুষ্টকামুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ শ্রেণিতে আর ছোট মেয়ে এখনো স্কুলের যাওয়ার বয়সে পৌঁছায়নি।
প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের ঘর পেয়ে অনেক স্বপ্ন বাস্তবায়নে আত্মবিশ্বাসী এই সুজন-সজল দম্পতি। তাদের বড় ছেলে সঞ্জয় মনিদাস বলেন, আগে খুপড়ি ঘরে থাকতাম। বিদ্যুৎ ছিল না, ঝড় বৃষ্টিতে ঘুমোতে পারতাম না।

কিন্তু এখন আমাদের ঘরে বিদ্যুৎ আছে। ঠিকমতো লেখাপড়া করতে পারি। বড় হয়ে সেনাবাহিনী বা পুলিশে চাকরি করার যে স্বপ্ন ছিল সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার সাহস পাই। পড়াশোনা করতে এখন অনেক ভালো লাগে। সঞ্জয় দাসের মা সজল মনি দাস বলেন, ছেলে মেয়ে এখন আগের চাইতে পড়াশোনায় অনেক মনোযোগী। আমাদের স্বপ্ন ওরা ঠিকঠাক মতো লেখাপড়া করে অনেক বড় হবে। আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পাওয়া বিল্লাল হোসেন (২৯) যেন জীবনেরই ছন্দ ফিরে পেয়েছেন। দেওহাটা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে বসবাস করছেন তিনি। বিল্লাল হোসেন বলেন, বাবার দ্বিতীয় বিয়ের পর মা-বোনের সঙ্গে নানা বাড়িতে আশ্রয় হয় বিল্লালের। তখন তার বয়স ছিল ৭। মায়ের মৃত্যুর পর নানা বাড়ির সেই আশ্রয়ও হারান তারা। শুরু হয় বিল্লাল ও তার বোনের আশ্রয়হীন জীবন। মির্জাপুরের বাইমহাটী এলাকায় ছাপড়াঘর বানিয়ে বসবাস শুরু করেন তিনি। রিকশা চালিয়ে করতে থাকেন জীবন নির্বাহ। একসময় বিয়ে করেন। কিন্তু ছাপড়া ঘরে স্ত্রী আর যুবতী বোনের নিরাপত্তার শঙ্কা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতেন সবসময়। এখন সরকারি ঘর পেয়ে রিকশা চালানো ছেড়ে চায়ের দোকান দিয়েছেন, বোনকেও বিয়ে দিয়েছেন বিল্লাল। এবার একমাত্র ছেলে সন্তানকে উচ্চশিক্ষিত করে একটি সুন্দর জীবন উপহার দেয়াই তার স্বপ্ন। উপজেলার দেওহাটা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১০২টি ঘরে বসবাস করা বেশ কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে কথা হলে এভাবেই তারা তাদের দিন বদলের স্বপ্নের কথা তুলে ধরেছেন।
তবে, আশ্রয়ণ প্রকল্পে জীবনযাপনকে আরও উন্নত ও এটিকে একটি আদর্শ হিসেবে গড়ে তুলতে আরও কিছু টিউবওয়েল স্থাপন এবং পানি ও আবর্জনা নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন একাধিক বাসিন্দা। ৩৯ নম্বর ঘরে বসবাস করা হস্তশিল্পী সুমন দাস বাঁশ দিয়ে মাছের খাঁচি বানিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি বলেন, এই ঘর পাওয়ার পর আগের চাইতে ভালোমতো কাজ করতে পারি। কিন্তু এখানে টিউবওয়েলের সংখ্যা খুবই কম। যা আছে সেগুলোতে পানি আসে কম। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এমন মানবিক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃত্ত থাকতে পেরে আমি গর্বিত। এই কাজ করতে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি বলে বিশ্বাস করি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘিরে সরকারের আরও অনেক পরিকল্পনা রয়েছে যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এর মধ্যদিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারীদের জীবন মান আরও উন্নত হবে।