একে একে ১৪টি বিয়ে। চিকিৎসক পরিচয়ে ১৪ নারীকে বিয়ে করার পরে অবশেষে পুলিশের জালে ধারা পড়লেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। অবশ্য কেবল বিয়ে করাই নয়, অভিযুক্ত এই ব্যক্তির লক্ষ্য ছিল বিয়ের মাধ্যমে নারীদের কাছ থেকে সম্পদ হাতিয়ে নেওয়া। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যে। সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআই এবং সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। ADVERTISEMENT প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম বিধুপ্রকাশ সোয়েন। বছর ষাটের এই বৃদ্ধ ভারতের ৭টি রাজ্যে ১৪টি বিয়ে করেছেন। অবশেষে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে উড়িষ্যার ভুবনেশ্বর থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, আইনজীবী, চিকিৎসক, নার্স, আধা সামরিক বাহিনীতে কর্মরত নারী, এমনকি বেশ কয়েকজন উচ্চশিক্ষিত নারীও ছিলেন অভিযুক্ত বিধুপ্রকাশ সোয়েনের শিকারের তালিকায়। ৪৮ বছরে দিল্লি, পাঞ্জাব, আসাম, ঝাড়খণ্ড এবং উড়িষ্যাসহ ভারতের সাত রাজ্যে ১৪টি বিয়ে করেন তিনি। অভিযুক্ত বিধুপ্রকাশ উড়িষ্যার কেন্দ্রাপড়ার পাতকুড়া থানার বাসিন্দা। বিবাহ-সম্পর্কিত ওয়েবসাইটগুলোতে নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে নারীদের সঙ্গে আলাপ জমাতেন তিনি। শিকার হিসেবে বেছে নিতেন মূলত মাঝবয়সী অবিবাহিত নারী ও ডিভোর্সিদের। এভাবে একে একে শিকারের ফাঁদে ফেলেন নারী চিকিৎসক, আধা সামরিক বাহিনীতে কর্মরত নারী, আইনজীবী এমনকি উচ্চশিক্ষিত নারীদেরও। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্তের প্রথম শিকার ১৯৮২ সালে। ওই বছরে এক নারীকে বিয়ে করেন বিধুপ্রকাশ সোয়েন। দ্বিতীয় বিয়ে করেন ২০০২ সালে। ভুবনেশ্বরের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার ঊমাশঙ্কর দাশ জানিয়েছেন, প্রথম ও দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর মোট পাঁচ সন্তান রয়েছে। ADVERTISEMENT তিনি আরও বলেছেন, ২০০২ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিবাহ-সম্পর্কিত ওয়েবসাইটে গিয়ে নারীদের সঙ্গে আলাপ জমিয়ে তাদের বিশ্বাস অর্জন করার পর বিয়ে করতেন। ঘটনাচক্রে, যত জনকে তিনি বিয়ে করছেন, কেউই বিধুপ্রকাশের আগের বিয়ে সম্পর্কে মোটেও টের পাননি। ডেপুটি পুলিশ কমিশনার ঊমাশঙ্কর জানিয়েছেন, বিয়ে করাই অভিযুক্তের মূল উদ্দেশ্য ছিল না। তার মূল উদ্দেশ্য ছিল চাকরিজীবী নারীদের বিয়ে করে তাদের টাকাপয়সা আত্মসাৎ করা। আর প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি বিয়ের পর স্ত্রীদের টাকা হাতিয়ে পালাতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। পুলিশ জানিয়েছে, গত জুলাইয়ে এক শিক্ষিকা ভুবনেশ্বরে অভিযোগ দায়ের করেন। তার অভিযোগ ছিল, এক ব্যক্তি তাকে ২০১৮ সালে দিল্লিতে বিয়ে করে ভুবনেশ্বরে নিয়ে আসেন। ওই ব্যক্তি বেশ কয়েকটি বিয়ে করেছেন এমনও অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। শিক্ষিকার অভিযোগ পেয়েই তদন্তে নামে পুলিশ। পরে সোমবার অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ভুবনেশ্বর থেকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্তের কাছ থেকে ১১টি এটিএম কার্ড, চারটি আধার কার্ড এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেছে পুলিশ। ডেপুটি পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, নারীদের ফাঁসিয়ে বিয়ে করে টাকা হাতানো ছাড়াও আরও প্রতারণা কাজে জড়িত ছিলেন অভিযুক্ত বিধুপ্রকাশ সোয়েন। এর আগে যুবকদের চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগে হায়দরাবাদে গ্রেফতারও হয়েছিলেন তিনি।

শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ ও পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতাসহ ৮ দফা দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানববন্ধন করেছেন শিক্ষকরা। মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব চত্বরে স্বাধীনতা শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা অংশ নেন।

স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ মো. আকরাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন ও আশুগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি শাহজাহান ভূঁইয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এ সময় বক্তারা মুজিব শতবর্ষেই শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের ঘোষণার মাধ্যমে সার্বজনীন বিজ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়ন এবং শিক্ষক ও কর্মচারীদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা, বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা প্রদানের জন্য আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান।

পরে সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দফতরে ৮ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।