উত্তরে হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি

উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁওয়ে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হঠাৎ বৃষ্টির সঙ্গে শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে জানা গেছে, লালমনিরহাটের ৫ উপজেলায় ফাল্গুনের শিলাবৃষ্টিতে আলুসহ নানা উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফাল্গুন মাসে আলু, সরিষা, গম ও তামাক উত্তোলনের মৌসুম শুরু হয় লালমনিরহাটে। অনেকেই এসব ফসল ঘরে তুলতে শুরু করেছেন। এমন সময় সোমবার বিকেলে হঠাৎ জেলার আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে যায়। শুরু হয় মেঘের গর্জন। এরপর মাঝারি আকারের শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। চলে কয়েক মিনিট। তবে জেলার পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা উপজেলায় শিলাবৃষ্টি না হলেও কালীগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক ক্ষতি করেছে শিলাবৃষ্টি। আদিতমারী ও সদর উপজেলার আংশিক শিলাবৃষ্টির কবলে পড়ে।

তিস্তাচরের কৃষক আমির আলী বলেন, চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ বীজের খেতে প্রথমে পরাগায়ন সংকট দেখা দেয়। পরে ১২ হাজার টাকা খরচ করে খেতে মৌমাছির কৃত্রিম বাসা তৈরি করে এ সমস্যার কিছুটা সমাধান করলেও দুই দফা ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে খেত লন্ডভন্ড হয়ে যায়। এখন খেত থেকে ১০ কেজি বীজও পাব কিনা, তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।

তিনি আরও বলেন, এ বছর টাকা খরচ করেছি। নিয়মিত পরিচর্যায় জমিতে পেঁয়াজের থোকাও হয়েছিল বেশ ভালো। তামাকও বেশ ভালো হয়েছিল। কিন্তু শিলাবৃষ্টিতে পুরো খেত নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তার ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন এই কৃষক।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামীম আশরাফ বলেন, হঠাৎ করে ফাল্গুন মাসে শিলাবৃষ্টিতে উঠতি আলু, সরিষা, গম ও তামাকসহ মাঠে থাকা নানা ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছি। তালিকা করলে ক্ষতির পরিমাণ বুঝা যাবে।

এদিকে ঠাকুরগাঁওয়ে শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতিসহ অনেকের ঘরের চালা ফুটো হয়ে গেছে। সোমবার বিকেল ৪টায় হঠাৎ শিলাবৃষ্টি শুরু হয় জেলার বিভিন্ন এলাকায়। বৃষ্টির সঙ্গে ঝরে বড় বড় শিলা।

শিলাবৃষ্টিতে বসতঘরের টিন ফুটো হয়ে যাওয়া সদর উপজেলার বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন, আজকে হঠাৎ করেই বৃষ্টি শুরু হয়। একটু পর বৃষ্টির সঙ্গে শিলা পড়া শুরু হয়। পরে বৃষ্টির ন্যায় অনবরত শিলা পড়তে থাকে। আমার একমাত্র থাকার ঘরটি শিলার আঘাতে বিভিন্ন জায়গায় ফুটো হয়ে গেছে। ঘরের ভিতর এখন পানি পড়ছে ।

সদর উপজেলার ভুল্লী এলাকার মামুন বলেন, বৃষ্টির সঙ্গে শিলা পড়ায় অনেকের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং সম্পদ নষ্ট হয়েছে।

রুহিয়া এলাকার কৃষক আমিরুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ বৃষ্টিতে আমাদের ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে শিলা পড়ায় কারণে ভালো ফলন পাওয়ার আশা করা যাচ্ছে না। সেই সঙ্গে আমার আম বাগানের কুঁড়িগুলোও নষ্ট হয়ে গেল।

মাত্র রিক্সাখান নিয়া বাহির হনু মুই৷ বাহির হবার সাথেই এমন বৃষ্টি। তারপরেও ফের বৃষ্টির সাথে বড় বড় পাথর। রিক্সা নিয়া আর বের হওয়াই যায়না৷ সারাদিনে আইজকা মাটি হয়ে গেল। কোন ইনকাম হইল নাই। কিভাবে আইজকা বাজার করি বাপু গে?

এভাবেই শিলাবৃষ্টির সময় রিকশা নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে নিজের অভিব্যক্তি বলছিলেন রিকশাচালক ইউনুস আলী৷

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু হোসেন বলেন, আজকে ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকায় শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে গমের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে আগামীকাল সরেজমিনে গিয়ে আমরা বিস্তারিত জানাতে পারেব।