আমের রাজ্যে নতুন সেনসেশন ‘কাঁচা আমের জিলাপি’

আমের রাজ্য রাজশাহীতে আলোড়ন তুলেছে কাঁচা আমের জিলাপি। শুনতে অবাক লাগলেও রোজায় রসে টইটম্বুর, গরম ও মচমচে জিলাপিতে নতুন মাত্রা এনেছে কাঁচা আম। কিছু দিন আগে আলোচনা তৈরি হয়েছিল কাঁচা মরিচের ঝাল রসগোল্লা নিয়ে। রাজশাহীতে এবার নতুন সেনসেশন এই কাঁচা আমের জিলাপি কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে নগরবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ইফতার তালিকায় নতুন চমক হিসেবে যোগ হওয়া কাঁচা আমের এই জিলাপি। ভিন্ন আঙ্গিকের এই জিলাপি এনেছে রাজশাহীর ‘রসগোল্লা’ মিষ্টি ভান্ডার। মিষ্টিজাত পণ্যে নতুনত্ব এনে তাক লাগিয়ে দিয়েছে রাজশাহীসহ সারাদেশের মানুষকে। অজানা স্বাদ নিতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে রাজশাহীবাসী। রাজশাহী নগরীর ভদ্রা এবং উপশহর নিউমার্কেটে রসগোল্লার দুই বিক্রয় কেন্দ্রেই মিলছে কাঁচা আমের জিলাপি। প্রতি কেজি ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এসব জিলাপি।

শনিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর উপশহর নিউ মার্কেট এলাকার রসগোল্লার বিক্রয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ইফতারের সময় হতে তখনও অনেক দেরি। তবুও ইফতারের নতুন অনুসঙ্গ হিসেবে কাঁচা আমের জিলাপি কিনতে জমেছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। বিক্রয় কেন্দ্রের সামনেই বসানো হয়েছে কয়েকটি অস্থায়ী চুলা। সেখানেই জিলাপি ভাজছিলেন কারিগর মাসুম আলী। রস থেকে তুলে রাখার ফুসরত নেই। সঙ্গে সঙ্গে শেষ। বিরাম নেওয়ার জোঁ নেই কারিগর কিংবা বিক্রয়কর্মীদের।

জানতে চাইলে এই কারিগর জানান, জিলাপি তৈরির মূল উপকরণের সঙ্গে ব্লেন্ড করে যুক্ত করা হচ্ছে কাঁচা আম। সাথে মেশানো হচ্ছে ফ্লেভার। সুস্বাদু এই জিলাপি যে কারো জিভে জল আনতে বাধ্য।

তিনি বলেন, অন্য স্বাভাবিক জিলাপির তুলনায় এটি বানানোও সহজ। কম সময়ে সহজে উপকরণ তৈরি করা যায় বলেও জানান তিনি।

রসগোল্লা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) প্রথমবারের মতো ক্রেতাদের সামনে আনা হয় কাঁচা আমের জিলাপি। তাতেই হুলস্থুল কাণ্ড ঘটে যাচ্ছে দুই বিক্রয় কেন্দ্রেই।

দোকানের পাশ দিয়ে রিক্সায় যাচ্ছিলেন মুদি দোকানি সাগর। নতুন জাতের সবুজ জিলাপি দেখেই কিনতে যান তিনি। কাঁচা আমের তৈরি এ জিলাপি দেখে লোভ সামলাতে পারলেন না তিনিও। তিনি জানান, এর আগে রেশমি জিলাপিসহ নানা জাতের জিলাপি খেলেও কাঁচা আমের জিলাপি এই প্রথম।

দোকানের বিক্রয়কর্মী নিশান জানান, একেবারে নতুন আয়োজন হওয়ায় ক্রেতাদের থাকছে বাড়তি আগ্রহ। তারা বেলা ২টার পর থেকে ইফতারের পসরা নিয়ে হাজির হন। তাদের প্রধান আকর্ষণ কাঁচা আমের জিলাপি। সাথে রয়েছে রেশমি জিলাপিও। এর বাইরেও ইফতার আয়োজনে রয়েছে বিশেষ ফিরনি, মাষকলাই জিলাপি, বোরহানি, মাঠা এবং বুনদিয়া।

কাঁচা আমের জিলাপি খাওয়ার অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে আরিফুর রহমান অ্যানি বলেন, স্বাভাবিকভাবেই জিলাপি মিষ্টি প্রকৃতির হয়ে থাকে। তবে কাঁচা আমের সঙ্গে জিলাপির সংমিশ্রণের ফলে কাঁচা আমের স্বাদ ও জিলাপির হালকা মিষ্টির স্বাদ দুটোই পাওয়া যাচ্ছে।

এ বিষয়ে রসগোল্লার স্বত্বাধিকারী আরাফাত রুবেল জানান, মৌসুমের শুরুতে রাজশাহী অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে আমের গুটি ঝরে যায়। এসব ঝরে যাওয়া আমগুলোকে কাজে লাগাতে সেগুলো জিলাপিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর জিলাপির মাঝে কাঁচা আমের স্বাদ জিলাপিকে আরও লোভনীয় করে তুলছে।

অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কাজে লাগানোর বিভিন্ন ব্যতিক্রমী আয়োজন করে থাকি। তেমনই মৌসুমের শুরুতে প্রচুর পরিমাণে আমের গুটি ঝরে যায়। এসব ঝরে যাওয়া আমগুলোকে কাজে লাগাতে সেগুলো জিলাপিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর জিলাপির মাঝে কাঁচা আমের স্বাদ জিলাপিকে আরও লোভনীয় করে তুলছে।

তিনি আরও বলেন, কাঁচা আমের নতুন এ স্বাদ নিতে ক্রেতারা যথেষ্ট আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ক্রেতা চাপে ইফতারের দেড় দুই ঘণ্টা আগেই বিক্রি শেষ হয়ে যাচ্ছে।