আমের আবাদ বেড়েছে চুয়াডাঙ্গায়

আমের মুকুলে মুকুলে ভরে উঠেছে চুয়াডাঙ্গার আম বাগানগুলো। এবার কিছুটা আগেভাগেই শোভা ছড়াচ্ছে আমের মুকুল। আর কিছুদিন পরেই দেখা মিলবে গুটি আমের। গত বছরের তুলনায় চুয়াডাঙ্গায় এবার বেড়েছে আমের আবাদ। এর ইমধ্যে গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে আমের মুকুলের। আমের বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ততা দেখা গেছে চাষীদের মধ্যে।

জেলায় সাধারণত আম্রপালি, ল্যাংড়া, ফজলি, হাঁড়িভাঙা, মল্লিকা, থাই, গোপালভোগ, বারি-১০, দেশি, বেনারসি সিতাভোগ জাতের আম আবাদ হয়। এর মধ্যে সিংহভাগই আম্রপালি। তবে আমের আবাদ নিয়ে যেমন আছে প্রত্যাশা, তেমনি আছে শঙ্কাও। কেননা এরই মধ্যেই দু’দফায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে আম চাষীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। সবমিলিয়ে আবহাওয়া কতটা পক্ষে থাকবে তা নিয়েই ভাবনা চাষীদের।

কয়েকটি আম বাগান ঘুরে দেখা গেছে, গাছে থোকায় থোকায় হলুদ রঙের মুকুল আসতে শুরু করেছে। মুকুল ও গুটি আম দেখে ইতিমধ্যে ব্যাপারীরা বাগানের দরদাম হাঁকছেন। আর বাগান মালিকেরা আমের ভালো ফলন পেতে ছত্রাকনাশক প্রয়োগসহ বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। যদিও শিলা বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে অনেক বাগানের আমের মুকুল ঝরে পড়েছে। শিলা বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে মুকুল। এ নিয়েই যত চিন্তা আম চাষীদের।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর সদর উপজেলায় ৮২৫ হেক্টর জমিতে ১০ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন, আলমডাঙ্গায় ২৮০ হেক্টর জমিতে ৫ হাজার ৩৪০ মেট্রিক টন, জীবননগরে ৪০০ হেক্টর জমিতে ৭ হাজার মেট্রিক টন ও দামুড়হুদায় ৩১০ হেক্টর জমিতে ৭ হাজার ৮৭৫ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়েছিল। এ বছর সদর উপজেলায় ৮২৬ হেক্টর, আলমডাঙ্গায় ২৮০ হেক্টর, জীবননগরে ৪১০ হেক্টর ও দামুড়হুদায় ৩২৫ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে।

গত বছরের তুলনায় এবার ৯৩ হেক্টর বেশি জমিতে আম আবাদ হয়েছে। এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ হাজার মেট্রিক টন। অনুকূল আবহাওয়া ও আম লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছরই আমের আবাদ বাড়ছে।

সদর উপজেলার হাজরাহাটি গ্রামের আম চাষি রবিন ইসলাম ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘এ বছর আমার আম গাছে প্রচুর পরিমাণে মুকুল আসতে শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত মুকুলে কোনও রোগ-বালাই আক্রমণ করেনি, তবে আবহাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। সম্প্রতি ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে বেশ ক্ষতি হয়েছে। সামনে কী হবে তা নিয়েই যত চিন্তা।’

দামুড়হুদা উপজেলার পীরপুর গ্রামের আমবাগানের মালিক রহিদুল ইসলাম ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘বাগানের অধিকাংশ গাছেই মুকুল রয়েছে। এখন হালকা ঝড়ো বাতাস হলেও ক্ষতির ভয় রয়েছে। তবে এ বছর আবহাওয়া ঠিক থাকলে বেশ ভালো ফলন হবে। গত বছর সাড়ে ১৫ বিঘা জমিতে আমের বাগান ছিল। যা বিক্রি করেছিলাম ৭ লাখ টাকায়। এ বছর ২০ বিঘা আমের বাগান আছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. আব্দুল মাজেদ ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘এ বছর একটু আগেই আমগাছে মুকুল এসেছে। যদিও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আমচাষীদের নানাভাবে পরামর্শ ও সহযোগীতা করা হচ্ছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমগাছে খুব একটা কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন হবে না।’

তিনি বলেন, ‘ছত্রাকজনিত রোগে আমের মুকুল ও গুটি আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বাগানে দুই দফা ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। গতবছরের তুলনায় এবার আবাদ অনেক বেশী হয়েছে। কোনও বিপর্যয় না হলে ফলনও অনেক বেশীই হবে।’