অবশেষে রমেকের কিডনি বিভাগের ১৩ যন্ত্র সচল

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগে কিডনি ডায়ালাইসিসের ১৮টি যন্ত্রই সচল করা হয়েছে। শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে পুরোদমে সবগুলো সচল যন্ত্রের ব্যবহারের মাধ্যমে রোগীদের ডায়ালাইসিস করা সম্ভব হবে। ডায়ালাইসিস যন্ত্রে বিশেষ পানি সরবরাহের সঙ্গে কেমিক্যাল মেশানো ফ্লুইডের মধ্যে ত্রুটি হওয়ায় সাময়িকভাবে ১৩টি যন্ত্র বিকল হয়ে পড়েছিল বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রগুলো দেখভাল করে সচল করে তোলেন টেকনিশিয়ানরা।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হঠাৎ কিডনি ডায়ালাইসিস চলা অবস্থায় ১৩টি যন্ত্র নষ্ট হয়ে পড়ে। এতে করে সচল থাকা বাকি পাঁচটি যন্ত্র দিয়ে সেবা নিতে আসা রোগীরা দুর্ভোগে পড়েন। স্থানীয়ভাবে টেকনিশিয়ানরা ওই দিন বিকেল পর্যন্ত কাজ করে সাতটি যন্ত্র সচল করেন। পরে ১৮টির মধ্যে ১২টি যন্ত্র সচল করে বিকেলের পর থেকে অপেক্ষমাণ রোগীদের মধ্যরাত পর্যন্ত ডায়ালাইসিস করা হয়।

রকেম হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগের আট জেলার মধ্যে সরকারিভাবে একমাত্র রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস করানো হয়। এ কারণে এই হাসপাতালে রোগীর চাপ সব সময় বেশি থাকে। শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন ছাড়া গড়ে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ জন নির্ধারিত প্যাকেজ নেওয়া কিডনি রোগীর ডায়ালাইসিস করা হয়। প্রতিটি যন্ত্রে দুই থেকে তিনজন রোগীর ডায়ালাইসিস হয়ে থাকে। একজন রোগীর সপ্তাহে দুই দিন করে ডায়ালাইসিস হয়। প্রতি ডায়ালাইসিসে খরচ হয় ৪০০ টাকা। কিন্তু বাইরে ডায়ালাইসিস করাতে গেলে ৩ হাজার টাকার বেশি লাগছে। এ ছাড়া প্রতিদিন সেবাপ্রত্যাশী আরও ১০-১৫ জন সাধারণ রোগী সিরিয়ালে থাকেন।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, নেফ্রোলজি বিভাগে আগে ডায়ালাইসিস যন্ত্র ছিল ৩০টি, এখন ১৮টিতে দাঁড়িয়েছে। বাকিগুলো বিকল হয়ে পড়ে আছে। ২০১০ সালে কিডনি রোগীদের রোগ নির্ণয়ে ১০টি ডায়ালাইসিস যন্ত্র স্থাপন করা হয়। বাকি আটটি ২০১৬ সালের। এসব যন্ত্রের ওয়ারেন্টির সময়সীমা তিন বছর আগেই পেরিয়ে গেছে। এখন কোনো সমস্যা দেখা দিলে মেরামত করে রোগীদের ডায়ালাইসিস করা হয়।

নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান মোবাশ্বের হোসেন বলেন, হঠাৎ করে ১৩টি যন্ত্র বিকল হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়েছেন। শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন হওয়া স্বত্ত্বেও সকাল থেকে নেফ্রোলজি বিভাগের চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী ও টেকনিশিয়ানরা যন্ত্রগুলো খুলে পরিষ্কার করেছেন। টেকনিশিয়ান ও আমাদের পর্যবেক্ষণে মনে হয়েছে, যন্ত্রের মধ্যে তেমন ত্রুটি ছিল না। তবে পানি ও ফ্লুইডের মিশ্রণ ঠিকমতো না হওয়ায় যন্ত্রগুলো এক সঙ্গে হঠাৎ বিকল হয়ে পড়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এসব যন্ত্র পরিচালনার জন্য বিশেষ পানি ব্যবহার করা হয়। সেই পানির সঙ্গে এক ধরনের তরল কেমিক্যাল ‘ফ্লুইড’ মেশানো হয়। মূলত পানি ও ফ্লুইডের মিশ্রণ ক্রুটি থেকেই যন্ত্রগুলো অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। তবে এখন ১৮টি যন্ত্রই ব্যবহার উপযোগী হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, শনিবার থেকে পুরোদমে ১৮টি যন্ত্রে রোগীদের ডায়ালাইসিস করা সম্ভব হবে।

রমেক হাসপাতালের পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, স্থানীয় টেকনিশিয়ানদের চেষ্টায় যন্ত্রগুলো সচল করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া দু-এক দিনের মধ্যে ঢাকা থেকে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান আনা হবে। তারা এসে এসব যন্ত্র আবার দেখবেন। কারণ রংপুরে এসব যন্ত্র মেরামত করতে সার্বক্ষণিক পাওয়া যাবে এমন কোনো অভিজ্ঞ লোক নেই।